অর্ধেক কাওন মাছ
Created with Inkfluence AI
বৃষ্টির মধ্যে খাবার ভাগাভাগি ও মানবিকতার গল্প
Table of Contents
- 1. কাওন মাছের দাম শুনে থমকে যাওয়া
- 2. এক টেবিলে লজ্জার নীরবতা
- 3. মাছ ভাগ করতে গিয়ে ভুল ধারণা ভাঙে
- 4. জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যাডাম নাম শোনার পর দৌড়
- 5. বিল অর্ধেক দিয়ে শান্ত সমাপ্তি
Preview: কাওন মাছের দাম শুনে থমকে যাওয়া
A short excerpt from “কাওন মাছের দাম শুনে থমকে যাওয়া”. The full book contains 5 chapters and 7,662 words.
ঝুমঝুম বৃষ্টির মধ্যে কোর্ট থেকে বেরিয়ে সাইকেলের চেইনের শব্দের সাথে ছাতার ক্যানভাসে পানি পড়ার টাপটাপ মিলিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু পিরোজপুর শহরের রাস্তা মোড় নিতেই টিনের মতো একটা গলির মুখ চোখে পড়ল। পিরোজপুর মহিলা কলেজের কাছাকাছি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের সামনের সেই ছোট জায়গাটা - চিপা গলির মতো। সাইকেল দাঁড় করাতে গিয়ে ছাতা একবার কাঁধে ঠেকে গেল, তারপর আবার ঠিক করে ধরে দরজার কাছে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির পানি সাইকেলের রড বেয়ে জড়ো হচ্ছিল, কাপড়ের ভেতরটা ঠান্ডায় সেঁতিয়ে উঠছিল।
ভেতরে ঢুকতেই টিনের ছাল আর দেয়ালের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির শব্দ আরও কাছে এসে বসে গেল। ঝমঝম শব্দের মধ্যে হোটেলের ভিতরটা অদ্ভুত নীরব - তিনটা টেবিল, একেকটায় দুজন করে বসতে পারে, জায়গা কম, তাই শব্দও যেন গুনে গুনে পড়ে। আমি ছাতা ভাঁজ করে পাশে ঠেলে ভাতের দিকে তাকালাম। সাদা ভাত আর তরকারি - আজকে এটুকুই চাই। কোর্ট থেকে ফেরার পথে শুধু ১০ টাকার চিনি বাদাম খেয়েছিলাম, তাও দুপুরের আগেই ক্ষুধা আবার টান দিতে শুরু করেছে; এখন বৃষ্টি মাথার ওপর, শরীরও ভিজে ক্লান্ত। ভাত-ডাল আর একটু গরম তরকারি খেয়ে দ্রুত বাসার দিকে প্যাডেল চালালেই চলবে।
কাউন্টারের দিকে এগোতেই হোটেলের ভাই আমাকে চিনে ফেলল না, তবু মুখভঙ্গির ভেতর দিয়ে বুঝে গেল - আমি ক্ষুধার মানুষ, সময় কম। আমি বললাম, “ভাত দেন। ডাল-তরকারি দিয়ে দ্রুত খাই।”
তিনি নীরবে চুলার দিক তাকালেন, তারপর টেবিলে থাকা পাত্রগুলোর দিকে ইশারা করলেন। আমার চোখ পড়ল - একটা পাত্রে একটা পিস মাছ। মাছটা বড় না, কিন্তু সেদ্ধ-গরমের রঙে চোখে লেগে থাকল। কৌন মাছ, লালচে-কালচে মাংসের টানটান ভাব দেখে মনে হলো - ঘ্রাণ না পেলেও দৃষ্টিটা খাবার কথা বলে দিচ্ছে।
“এটা কী মাছ ভাই?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“কাওন মাছ,” তিনি বললেন, যেন মাছের নাম বললেই শেষ। তারপর একটু থেমে যোগ করলেন, “দাম একশ কুড়ি টাকা।”
একশ কুড়ি - শব্দটা আমার মাথার ভেতরেই থেমে গেল। পকেটে তখন মাত্র ৯০ টাকা। বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালাতে চালাতে হিসাবটা মনে গেঁথে গিয়েছিল - আজকে চিনি বাদাম খেয়ে আসা মানুষ, আবার ডুপ্লেক্স বাড়িতে একাই থাকতে হয়, তাই খরচ নিয়ে টানাটানি লেগেই থাকে। আমি ভাত নিতে এসেছি, কিন্তু মাছ দেখে মনে হলো ক্ষুধা শুধু পেটে না, ইচ্ছে-লালসাতেও টান দিচ্ছে। তবু বাজেটটা যেন গলায় হাত বেঁধে ধরল।
আমি দ্রুত বললাম, “ভাই, আমি মাছ খাব না। সাদা ভাত-ডাল দেবেন, মাছ বাদ।”
হোটেলের ভাইয়ের মুখে একটুখানি অস্থিরতা দেখা গেল। হয়তো তিনি প্রতিদিনই একই কথা শোনেন - যে পারে সে মাছ নেয়, যে পারে না সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনেও যেন ভেতরে কিছু একটা মেপে দেখলেন; তারপর আবার মাছের দিকে তাকালেন।
“মাছটা তো এক পিস,” বললেন তিনি। “এক পিস কাওন মাছ।”
আমি চোয়াল চেপে ধরলাম, “এক পিস হলেও দাম তো ১২০। আমার কাছে ৯০।”
বৃষ্টির ঝুমঝম শব্দের মধ্যে আমার নিজের গলা কেমন খটখট করে উঠল। আমি ভাবলাম - ডাল-সবজি হলে চলে যাবে, আজকে প্রোটিনের ইচ্ছে থাকলেও না হয় বাদই। অনেক খাবার বেছে খাই, তাই কাওন মাছের মতো কিছু সুযোগ হলে মন টানে। কিন্তু টাকার হিসাবটা অকারণে নড়বে না।
আমি কাউন্টারের কাছে দাঁড়িয়ে বললাম, “ভাত-ডাল দিয়ে দেন ভাই। মাছটা বাদ।”
তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর হালকা করে হাসলেন - তবে সেটা হাসির মতো নয়, যেন কারও কাছে বাধ্য হয়ে সত্যি বলতে হয়। “শুধু ভাত-ডাল নিলে হবে,” বললেন তিনি, “কিন্তু… কাওন মাছের পিসটা আছে।”
আমি টেবিলের দিকে হাঁটলাম, ভেজা জামা শরীরের সাথে লেগে থাকায় ঠান্ডায় আরও কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। তবু বসার আগে আবার ফিরে এলাম, “ভাই, মাছ লাগবে না। আমি খালি খেয়ে বাসায় যাব।”
তখনই টেবিলের এক পাশে লোকটা চোখে পড়ল - হোটেলের ভেতরে নীরবতা ভাঙতে থাকা সবচেয়ে ছোট শব্দটা যেন তার নিঃশ্বাস। তিনি সাদা ভাতের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন, সামনে তরকারির পাত্র নেই - শুধু ভাতের প্লেট। মুখে হতাশা, কিন্তু খেতে বসে থাকা লোকটা যেন তবু ভদ্রতা ধরে রেখেছে। তিনি আমার দিকে তাকালেন না, তবু আমি বুঝতে পারলাম - তিনি শুধু ভাত নিয়েছেন, মাছ নেননি। হয়তো দাম শুনে থেমেছেন, কিংবা অন্য কোনো টান আছে।
আমি ভাত চেয়েই বসেছিলাম, কিন্তু মাছের পিসটা চোখের বাইরে যেতে চাচ্ছিল না। কাওন মাছ দেখেও না খাওয়ার ব্যাপারটা এমন এক ধরনের টান, যেটা পেটের বাইরে গিয়ে মনেও বসে। আমি মনে মনে বললাম - সময় নেই, টাকার অঙ্কও নেই। তবু প্লেটে ভাত আসার আগেই হোটেলের ভাই আবার লোকটার দিকে তাকিয়ে কথা বললেন, “দ্যান হ্যাললে, মাছ নষ্ট না হর্যা মুই খাই।”
লোকটা যেন সেই কথা শুনেই মাথা নেড়ে বললেন, “হ।” - শব্দটা ছোট, কিন্তু ভেতরে একটা স্বস্তি ছিল। তিনি ভাতের চামচ ঠেলে মুখে নিলেন, তারপর হঠাৎ করে মুখে হাসি ফুটে উঠল। আমি দেখলাম সেই হাসিটা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে - কেউ যেন তাকে অল্পের মধ্যে বাঁচিয়ে দিল। তার হাসি দেখে আমার বুকের ভেতর একধরনের টান ঢুকে পড়ল। আমি বুঝলাম, তিনি হতাশ ছিলেন, কিন্তু এখন কিছু একটা বদলে গেছে।
আমি প্লেটে ভাত আসার আগেই হোটেলের ভাইয়ের দিকে তাকালাম। তিনি আমার দিকে না তাকিয়ে লোকটার দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, “মাছটা খাইয়া লইবেন। নষ্ট হইব না।”
লোকটা বললেন, “মাছ, গোস্ত খাওন ভুল্ল্যা গ্যাছি। মেলা দিন পর মাছ খাইতাছি।” কথা বলতে বলতে তার চোখে পানি এসে দাঁড়াল, কিন্তু পানি পড়ে গেল না - মুখের হাসির ভেতরে আটকে রইল। এটা শুধু খাবারের কথা না, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথাও।
আমি তখনই বুঝতে পারলাম - লোকটার জন্য মাছটা সম্ভব হয়ে গেছে। আর মাছটা সম্ভব হওয়ার পথটা আমার পকেটের ৯০ টাকা নয় - কারও ইচ্ছা, কারও ছাড়। হোটেলের ভাইয়ের মুখে যে চুপচাপ ব্যস্ততা ছিল, সেটা যেন এখন সিদ্ধান্তের গন্ধ পেয়েছে। এই মুহূর্তে আমার ভেতরটা অদ্ভুতভাবে অস্বস্তিতে ভরে উঠল। আমি তো সোজা বলেছিলাম মাছ খাব না, মাছের দাম ১২০ আমার কাছে নেই। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, মাছ দেওয়া হচ্ছে - নষ্ট হবে না বলে।
...
About this book
"অর্ধেক কাওন মাছ" is a fiction book by Lifestyle Mahmud with 5 chapters and approximately 7,662 words. বৃষ্টির মধ্যে খাবার ভাগাভাগি ও মানবিকতার গল্প.
This book was created using Inkfluence AI, an AI-powered book generation platform that helps authors write, design, and publish complete books. It was made with the AI Novel Writer.
Frequently Asked Questions
What is "অর্ধেক কাওন মাছ" about?
বৃষ্টির মধ্যে খাবার ভাগাভাগি ও মানবিকতার গল্প
How many chapters are in "অর্ধেক কাওন মাছ"?
The book contains 5 chapters and approximately 7,662 words. Topics covered include কাওন মাছের দাম শুনে থমকে যাওয়া, এক টেবিলে লজ্জার নীরবতা, মাছ ভাগ করতে গিয়ে ভুল ধারণা ভাঙে, জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যাডাম নাম শোনার পর দৌড়, and more.
Who wrote "অর্ধেক কাওন মাছ"?
This book was written by Lifestyle Mahmud and created using Inkfluence AI, an AI book generation platform that helps authors write, design, and publish books.
How can I create a similar fiction book?
You can create your own fiction book using Inkfluence AI. Describe your idea, choose your style, and the AI writes the full book for you. It's free to start.
Write your own fiction book with AI
Describe your idea and Inkfluence writes the whole thing. Free to start.
Start writingCreated with Inkfluence AI