নিয়তির ডাক ও ফ্লাক্সের যাত্রা
Created with Inkfluence AI
এক চা বিক্রেতা ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে আত্মত্যাগ
Table of Contents
- 1. ভাঙা ফ্লাক্সের আগে শেখের দিন
- 2. মাসুমের হাত: পাঁচ হাজারের আলো
- 3. কলাভবনের বক্তৃতায় শেখের টান
- 4. গুলির সামনে ফ্লাক্স নামাতে পারল না
- 5. শিরোনাম বদলায়, আন্দোলন ঘুরে যায়
Preview: ভাঙা ফ্লাক্সের আগে শেখের দিন
A short excerpt from “ভাঙা ফ্লাক্সের আগে শেখের দিন”. The full book contains 5 chapters and 7,668 words.
ঢাকার ভোরে গাড়ির হর্নের শব্দ তখনও পুরো জেগে ওঠেনি, কিন্তু রাস্তায় রিকশার চাকার কাঁকর ঘষা শব্দটা কাঁপতে কাঁপতে কানে ঢুকছিল। শেখ যখন স্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে তার বড় ফ্লাক্সের ঢাকনা খুলল, ধাতুর ঠান্ডা গায়ে আঙুলের ছোঁয়ায় কাঁপুনি লাগল; ভেতরে উষ্ণ চা টলমল করছে-মলিন আলোতে সেটার রঙও যেন একটু গাঢ় দেখাচ্ছে। সে জীর্ণ হাঁটুতে ভর দিয়ে ব্যাগটা কাঁধে নিল, তারপর ফ্লাক্সটা টেনে-টেনে তুলে নিল গাড়ির মতো করে-যেন এটা কেবল পাত্র নয়, আজকের দিনের হিসাব। পাশে কাপড়ে মোড়া ছোট ছোট গ্লাস, আর তার মুখে আটকে থাকা সেই পরিচিত বাক্য, “চা-গরম চা।”
চলে যাওয়ার আগে সে একবার ফ্লাক্সের গায়ে হাত বুলাল। আঁচড়ে আঁচড়ে পড়া দাগগুলো তার চোখে পড়ল-এগুলো শুধু পুরনো কাজের চিহ্ন নয়, তার ঘুম ভাঙা সকালগুলোর সাক্ষ্য। পরিবারের খরচের হিসাবটা সে মুখে বলে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে গুনে-আজকে কত কাপ বিক্রি হলে চালের দাম মিটবে, কালকে ওষুধের টাকা আসবে। শেখের ইচ্ছেটা এই মুহূর্তে খুব সোজা: আজও ফ্লাক্সটা ভরে রাখবে, অর্ধেক পড়ে গেলে মনটা কেমন করে ভেঙে পড়ে সেটা সে জানে, তাই আজ সে চাইছিল চা শেষ না হোক, অন্তত বাড়ি ফেরার পথে পকেটে কিছু থাকুক।
রমনা পার্কের দিকে রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে তার ঘাম জমতে শুরু করল; গরম আসছে বলে বাতাসও যেন আগেভাগে ঘাম ঝরাচ্ছে। গরম চায়ের ভাপ কানে বাজল, কারও হাঁক-ডাকের শব্দ ভেসে এলো, আবার কোথাও বাস থামার ধাক্কায় ধাতব ঠকঠকানি। শেখ থামল পার্কের এক পাশে, যেখানে অফিস-ফেরত লোকজন দাঁড়ায়। “চা-গরম,” সে বলল, আর গ্লাসে ঢালতে ঢালতে দেখতে পেল তার সামনে সারি করা মানুষগুলোর হাত কাঁপছে তাড়ায়, কিন্তু চা পেলেই থামে। প্রথম কাপ বিক্রি হওয়ার সাথে সাথে তার বুকের ভেতরটা হালকা হল-বিক্রির শব্দ যেন একটা ছোট বিজয়।
কিন্তু ভোরের রাস্তায় বিজয় খুবক্ষণ টেকে না। শেখ যখন আবার হাঁটতে লাগল, ফ্লাক্সের ভার কাঁধে টান দিচ্ছিল, গায়ে স্যাঁতসেঁতে কাপড় লেগে থাকছিল। সে পার্কের গা ঘেঁষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছে-সকাল হলে সেখানে মানুষ একটু বেশি থাকে। তবু আজ অদ্ভুত ফাঁকা লাগছিল। দোকানগুলো খোলার আগেই রাস্তার মধ্যে একটা অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন কোথাও কিছু হতে যাচ্ছে। শেখ সেই অস্থিরতা টের পেল না, সে শুধু হিসাব মেলাতে চাইছিল।
কলাভবনের দিকে যাবার সোজা রাস্তা ধরতে গিয়ে হঠাৎ একটা ইঞ্জিনের গর্জন কানে ভারী হয়ে এলো। শেখ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার আগেই একটা দ্রুতগামী গাড়ির আলো তার চোখে সাদা হয়ে ফুটে উঠল। ব্রেকের চিৎকার-তারপর ধাক্কা। শেখ অনুভব করল, কাঁধের ওপরের টানটা যেন হঠাৎ ছিঁড়ে গেল; দেহটা এক ধাক্কায় পাশ ফিরে গেল। ধাতুর ঠকঠক শব্দ, চায়ের উষ্ণতা হাতের কাছে ছুটে আসা ভাপ-সব একসাথে মিশে গেল। ফ্লাক্সটা মাটিতে পড়ল, তারপর আরেকবার কাত হয়ে গড়িয়ে গিয়ে থামল। শেখ মাথা তুলতেই দেখল ফ্লাক্সের গায়ে ফাটল-দু’টুকরো হয়ে গেছে, যেন তার নিজের বুকটা দু’ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
“না… না!”-শেখের মুখ থেকে শব্দ বেরিয়ে এলো, কিন্তু গলায় আটকে গেল। সে হাত বাড়াল, ভাঙা ধাতুর ধারায় আঙুলের চামড়া আঁচড়ে লাগল, একটু রক্তও দেখা দিল। চায়ের উষ্ণতা আর এখন নেই; শুধু কাঁচা গরমের মতো ছড়িয়ে পড়া গন্ধ, আর মাটিতে ছিটকে যাওয়া দাগ। তার মাথায় একের পর এক ছবি ভেসে উঠল-বাড়ির টেবিলে চালের থালা, বোনের ওষুধের পাতা, ছোট ছেলের জিদে কেনা কটা বিস্কুট। আজকে সে কি দিতে পারবে? পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখল-কয়েনগুলো যেন আগেই শেষ হয়ে গেছে। নতুন ফ্লাক্স কেনার মতো টাকা নেই, আর থাকলেও এই অবস্থায় সে কেমন করে? তার ইচ্ছেটা সেদিনের ভোরের মতোই সরল ছিল, অথচ এখন সব উল্টে গেল।
রাস্তায় মানুষ জমতে শুরু করেছে। কেউ বলছে, “দেখেন কী করে গেল!” কেউ হাসছে, কিন্তু সে হাসির ভেতরেও রাগ আছে। শেখ ভাঙা ফ্লাক্সের দুই টুকরোর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল; হাঁটুতে ব্যথা, শ্বাসে টান, কাঁধে ভার-সবই একসাথে। সে চাইছিল দাঁড়িয়ে থাকতে, কিন্তু কাঁধের হাড় যেন ঠিক জায়গায় নেই। “আমার ফ্লাক্স… আমার ভাঙল!”-সে নিজের কাছেই বলল, যেন কথাটা বললেই কিছু বদলে যাবে।
একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর হঠাৎ ভেসে এলো, “ওটা কি শেখ না?” শেখ মাথা তুলে তাকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে দিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রী দৌড়াচ্ছে-তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে ব্যানার, কারও কাঁধে ব্যাগ। সেই ভিড়ের ভেতর থেকে একজন এগিয়ে এলো, মুখে ক্লান্তির আঁচ, চোখে দৃঢ়তা। শেখ চিনে ফেলল-মাসুম। তার গলা চিনতে সময় লাগল না; গত কয়েকদিনের পরিচিতি যেন আবার এসে দাঁড়াল।
“মাসুম ভাই…” শেখ বলল, শব্দটা কাঁপল। “আমার ফ্লাক্সটা তো ভেঙে গেল গো! এখন আমি কী করব?” সে ভাঙা ধাতুর টুকরো দেখাল, আঙুলে লেগে থাকা আঁচড়ের রক্তও ঢেকে গেল কাপড়ে। মাসুমের চোখে এক মুহূর্তে ধাক্কা খেল-তারপর সে পরিস্থিতি মেপে নিল। ভিড়ের শব্দ, দূরের ইঞ্জিনের গর্জন, আর মানুষের গুঞ্জনের ভেতরেও মাসুমের কথা যেন পরিষ্কার।
“তুমি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে কেন?” মাসুম বলল। “চল, কলাভবনে এসো। আগে তোমার ক্ষতিটা সামলাও।” শেখ শুনল, কিন্তু তার ভেতরকার ভয় কমল না। “তোমরা তো আন্দোলনের মানুষ… আজ আমার জন্য সময় হবে?”-শেখ জিজ্ঞেস করল, লজ্জা আর অসহায়তা একসাথে মিশে গলা ভারী করে দিল।
মাসুম ঠোঁট চেপে একটা ছোট হাসি দিল, কিন্তু হাসির ভেতরেও উদ্বেগ। “সময় থাকে। সবাই তো মানুষ। চল।” বলে সে ভিড় ঠেলে শেখকে রাস্তার কাঁধ ধরে নিয়ে যেতে লাগল। শেখ কাঁধে ভাঙা অংশগুলোর ওজন নিতে পারল না; সে শুধু দু’হাতে টুকরোগুলো আঁকড়ে ধরে হাঁটল, যেন এগুলো ছেড়ে দিলে আরও কিছু হারিয়ে যাবে।
কলাভবনের সামনে পৌঁছাতেই শেখ দেখল দেয়ালের গায়ে পোস্টার, টেবিলে রাখা পানির বোতল, আর কিছু ছাত্রছাত্রী ব্যস্ত হয়ে কাগজপত্র গুছাচ্ছে। দূরে মাইক থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে এলো-কথা ঠিক বোঝা গেল না, কিন্তু টোনটা কঠিন। মাসুম শেখকে একটা ছায়ায় বসাল। “পা একটু ধরো,” সে বলল না; শুধু চেয়ারের পাশে দাঁড়াল, যেন শেখ নিজেই দাঁড়াতে না পারে। শেখের কানে তখনও ধাক্কার শব্দ বাজছে, আর আঙুলে থাকা ধাতুর খোঁচা থেকে গরম শিরশির করছে।
...
About this book
"নিয়তির ডাক ও ফ্লাক্সের যাত্রা" is a fiction book by Anonymous with 5 chapters and approximately 7,668 words. এক চা বিক্রেতা ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে আত্মত্যাগ.
This book was created using Inkfluence AI, an AI-powered book generation platform that helps authors write, design, and publish complete books. It was made with the AI Novel Writer.
Frequently Asked Questions
What is "নিয়তির ডাক ও ফ্লাক্সের যাত্রা" about?
এক চা বিক্রেতা ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে আত্মত্যাগ
How many chapters are in "নিয়তির ডাক ও ফ্লাক্সের যাত্রা"?
The book contains 5 chapters and approximately 7,668 words. Topics covered include ভাঙা ফ্লাক্সের আগে শেখের দিন, মাসুমের হাত: পাঁচ হাজারের আলো, কলাভবনের বক্তৃতায় শেখের টান, গুলির সামনে ফ্লাক্স নামাতে পারল না, and more.
Who wrote "নিয়তির ডাক ও ফ্লাক্সের যাত্রা"?
This book was written by Anonymous and created using Inkfluence AI, an AI book generation platform that helps authors write, design, and publish books.
How can I create a similar fiction book?
You can create your own fiction book using Inkfluence AI. Describe your idea, choose your style, and the AI writes the full book for you. It's free to start.
Write your own fiction book with AI
Describe your idea and Inkfluence writes the whole thing. Free to start.
Start writingCreated with Inkfluence AI