নীরবতার নাম ছিল সাহিয়া
Created with Inkfluence AI
সাহিয়া নামের এক নারীর নীরবতার পেছনের গল্প
Table of Contents
- 1. বন্দরের কুয়াশায় সাহিয়ার নিঃশ্বাস
- 2. চিঠির ভাঁজে নিজের সত্য
- 3. নীরব সাক্ষীর খোঁজে মৃতপ্রায় রাস্তা
- 4. ঘড়ির কাঁটার আগে সত্য জব্দ
- 5. সাহিয়া নামকে নীরবতা থেকে মুক্তি
Preview: বন্দরের কুয়াশায় সাহিয়ার নিঃশ্বাস
A short excerpt from “বন্দরের কুয়াশায় সাহিয়ার নিঃশ্বাস”. The full book contains 5 chapters and 8,887 words.
নদীবন্দরের সিঁড়িতে পা দিতেই সাকিব বুঝল, কুয়াশা শুধু বাতাসে নয় - পাথরের গায়েও লেগে আছে। ভেজা ইটের ওপর তার জুতোর তলা টেনে উঠতেই কর্কশ ঘর্ষণের শব্দ হলো, তারপর নেমে গেল একটা নরম সাঁই সাঁই করা হাওয়া। দূরে লৌহশিকলে বাঁধা নৌকার গায়ে ঢেউ ঠেকল - টকটক শব্দ, সঙ্গে ভাঙা ভাঙা ইঞ্জিনের আওয়াজ। বন্দরের আলোগুলো কুয়াশার ভেতর দিয়ে থেমে থেমে জ্বলছে, যেন কেউ বারবার সুইচ টিপছে, কিন্তু ঠিকমতো আলো দিতে পারছে না।
সে হাতে যে চিঠিটা চেপে রেখেছিল, কাগজটা ঘাম আর ঠান্ডায় শক্ত হয়ে আসছিল। ভাঁজের দাগগুলো স্পষ্ট - বাড়ির ভেতরের আলোর নিচে লেখা কথাগুলো এখন আর পরিষ্কার নয়; বরং মনে হচ্ছিল, লিখে রাখা শব্দগুলোই কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। সাহিয়ার নামটা প্রথমবার শুনেছিল গত রাতে। এখন তার পায়ের নিচে সেই নামের গুজব ছড়িয়ে আছে - সুরকারের মতো নয়, শেয়ালের মতো। কেউ যেন ফিসফিস করে বলে, কেউ আবার গলা নামিয়ে সতর্ক করে।
সাকিব ঘাটের ধারে দাঁড়ানো কয়েকজন জেলেকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “হিয়ার কথা - এখানে কার মুখে শোনা যায়?”
একজন বয়স্ক লোক তার দিকে তাকাল, চোখ দুটো কুয়াশার রঙে ধূসর। তার হাতে থাকা দড়ির গিঁটটা একটু টানল, তারপর ছেড়ে দিল। “নামটা বললে আবার বিপদ টেনে আনে, ভাই। তবে শুনেছি - ঘাটের পেছনে গুদামঘরের দিকে নাকি একটা নীরব-বার্তা থাকে। লোকজন বলে, যারা খোঁজে যায়, তারা ফেরার পথে কথা কম বলে।”
সাকিব চেয়েছিল একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা। সে আরেকটু এগিয়ে গেল, কুয়াশার ভেতর হাত বাড়িয়ে যেন বাতাসের দেয়াল টের পেল। “নীরব-বার্তা মানে কী? কাদের কাছে থাকে?”
লোকটা হাসল না। শুধু বলল, “অচেনা কেউ প্রশ্ন করলে প্রহরীরা দরজা বন্ধ করে দেয়। আর… ভুল লোককে দেখলে সাইনবোর্ডও উল্টো হয়ে যায়।” শেষ কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠ কেমন করে নামল - যেন সে নিজেও শুনতে চায় না।
আরেকজন জেলে পাশে দাঁড়িয়ে থুথু ফেলল নদীর দিকে। “আপনি নতুন, তাই ভাবছেন সব খুলে দেবে। এখানকার তালা চাবি দিয়ে না - ভয় দিয়ে খোলে।”
চিঠির ভাঁজ খুলবে কি না, সেই দ্বিধা তার বুকের ভেতর একটা ছোট পাথরের মতো ঘুরছিল। কিন্তু সাহিয়ার নামের গুজব শুনেই সে ঠিক করেছিল, আজই সূত্র বের করবে। হাতে থাকা কাগজটা সে শক্ত করে ধরল, তারপর কুয়াশার দিকে - ঘাটের পেছনের সরু পথের দিকে - হাঁটতে শুরু করল। কাঠের স্লিপারের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় নিচে পানির ছিটে লাগল, ঠান্ডা পানি জুতোর ফাঁকে ঢুকে কাঁপুনি দিল। দূরে গুদামঘরগুলোর ছায়া স্পষ্ট হচ্ছে, কিন্তু দরজার সামনে আলোর রশ্মি ঢুকতে চায় না।
পথটা সরু, এক পাশে জাল শুকোচ্ছে, অন্য পাশে পচা মাছের বরফ গলে জমে থাকা সাদা দাগ। বাতাসে মাছের গন্ধ আর ভেজা কাঠের টানটান গন্ধ - একসঙ্গে মিশে মাথা ভারী করে। সাকিব কুয়াশার ভেতর দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে দেখল, একটা পুরোনো পোস্টারের অংশ দেয়ালে লেগে আছে। তাতে লেখা ছিল কিছু ভাঙা অক্ষর - প্রথম অক্ষর যেন “ন” আর শেষের দাগ “আ” - মনে হলো, সাহিয়ার নামের সঙ্গে মিল আছে। সে থামল, হাত বাড়িয়ে পোস্টারের ওপর আঙুল বুলাল। কাগজটা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো নরম, কিন্তু আঙুলে লেগে গেল তেলতেলে একটা কালচে রঙ - যেন কেউ বারবার একই জায়গায় আড়াল দিয়ে রেখেছে।
তার পেছনে হঠাৎ শব্দ হলো - ধাতুর ওপর ধাতুর আঘাত। সাকিব ঘুরে দেখল, দুই ধাপ দূরে একজন প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে। কুয়াশা সরলেই মানুষটা স্পষ্ট হয় না, কিন্তু তার লাঠির মাথায় আলো পড়ায় চোখে পড়ল। প্রহরী হাত তুলে ইশারা করল, “ওপাশে যাবেন না।”
সাকিব দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আমি শুধু গুদামঘরের পেছনের নীরব-বার্তার কথা শুনেছি।”
প্রহরী হাসল, কিন্তু হাসিটা শুকনো। “শুনেছেন মানে - কারো মুখ থেকে ভুল কথা বেরিয়েছে। এখানকার দরজা তালা দিয়ে নয়, নিয়ম দিয়ে আটকানো।”
“নিয়ম কার?” সাকিব জানতে চাইল, কণ্ঠ তীক্ষ্ণ রাখল, যেন ঠান্ডা কাঁপানো না হয়।
প্রহরী মাথা নিচু করে তার হাতে থাকা চিঠির দাগটা দেখল। “চিঠি থাকলে দেরি করবেন না। এখানে চিঠি দেখিয়ে কাউকে ঢোকানো যায় না। প্রমাণ দেখাতে হয় - আর প্রমাণ মানে অন্য কিছু।”
সাকিবর বুক ধড়ফড় করল। লোকটার কথায় একটা ফাঁক ছিল - যে ফাঁক দিয়ে ভুল ইঙ্গিত ঢুকতে পারে। তবু সে থামল না। “আমি প্রমাণের মতো মানুষ না। আমি শুধু সূত্র খুঁজছি।”
প্রহরী লাঠি দিয়ে মাটিতে একটা টোকা দিল। শব্দটা কুয়াশায় মরে গেল, কিন্তু আদেশটা থামল না। “সূত্র খোঁজার জন্য এখানে আসেন না। চলে যান।”
সাকিব এক পা এগোতেই প্রহরী অন্য হাতে একটা ছোট লণ্ঠন তুলল। আলো কুয়াশার ভেতর ছিটকে পড়ে, তারপর মাটিতে পড়ে থাকা একটা চেইনের গিঁট দেখা গেল। চেইনের মাথায় নতুন করে বাঁধা আছে কাগজের টুকরো - সামান্য লেখা। সাকিব ঝুঁকে পড়ল, কিন্তু প্রহরী সাথে সাথে লণ্ঠনটা সরিয়ে নিল, যেন লেখা পড়ার আগেই অন্ধকার ঢেকে দেয়।
“দেখছেন?” প্রহরী বলল, “নীরব-বার্তা কারো কাছে নয়। সেটা দরজার কাছে। দরজা যেদিন খুলবে - সেদিনই আপনি দেখবেন।”
“তাহলে আজ কেন আমি শুনলাম?” সাকিব বলল। তার ভেতরের সন্দেহ আর আগ্রহ একসঙ্গে টান মারল।
প্রহরী ঠোঁট চেপে বলল, “কারো মুখে সত্যি উঠলে, সেটা শেষ পর্যন্ত সত্যিই থাকে না। এখানে বাতাস বদলায়, কথা বদলায়।”
এই কথার পর সাকিব বুঝল - দুইটা জিনিসের মধ্যে সে আটকে পড়ছে। একদিকে প্রহরী তাকে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে, আরেকদিকে প্রহরীর কথায় এমন এক ধরনের ইঙ্গিত আছে, যেন কেউ তাকে ভুল দিকেই চালাতে চায়। কুয়াশার ভেতর তার চোখে গুদামঘরের দরজাগুলো একটার পর একটা সারি হয়ে দাঁড়াল। সব দরজায় তালা। কিন্তু একটার পাশে দেয়ালে একটা ছোট খাঁজ - যেখানে পুরোনো সুতোর দাগ আছে। সে ভাবল, নীরব-বার্তা যদি সত্যিই থাকে, সেটা দরজার তালায় লুকিয়ে থাকতে পারে না - যে জায়গা তালা ছাড়াও চোখ পড়ে, তার কাছেই থাকবে।
সে চিঠিটা বের করল না তখন। আগে দরজার কাছাকাছি যেতে হবে। সাকিব প্রহরীর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “তাহলে আপনি আমাকে অন্তত বলুন - কোন দরজার দিকে লোকজন যায়?”
...
About this book
"নীরবতার নাম ছিল সাহিয়া" is a fiction book by Writed By Sakib Abdullah with 5 chapters and approximately 8,887 words. সাহিয়া নামের এক নারীর নীরবতার পেছনের গল্প.
This book was created using Inkfluence AI, an AI-powered book generation platform that helps authors write, design, and publish complete books. It was made with the AI Novel Writer.
Frequently Asked Questions
What is "নীরবতার নাম ছিল সাহিয়া" about?
সাহিয়া নামের এক নারীর নীরবতার পেছনের গল্প
How many chapters are in "নীরবতার নাম ছিল সাহিয়া"?
The book contains 5 chapters and approximately 8,887 words. Topics covered include বন্দরের কুয়াশায় সাহিয়ার নিঃশ্বাস, চিঠির ভাঁজে নিজের সত্য, নীরব সাক্ষীর খোঁজে মৃতপ্রায় রাস্তা, ঘড়ির কাঁটার আগে সত্য জব্দ, and more.
Who wrote "নীরবতার নাম ছিল সাহিয়া"?
This book was written by Writed By Sakib Abdullah and created using Inkfluence AI, an AI book generation platform that helps authors write, design, and publish books.
How can I create a similar fiction book?
You can create your own fiction book using Inkfluence AI. Describe your idea, choose your style, and the AI writes the full book for you. It's free to start.
Write your own fiction book with AI
Describe your idea and Inkfluence writes the whole thing. Free to start.
Start writingCreated with Inkfluence AI