This book was created with Inkfluence AI · Create your own book in minutes. Start Writing Your Book
নীরব রাতের কান্না
Fiction

নীরব রাতের কান্না

by Anonymous · Published 2026-06-09

Created with Inkfluence AI

5 chapters 8,732 words ~35 min read Bengali

A dark Bengali emotional novel about love, betrayal, and healing.

Table of Contents

  1. 1. ভাঙা বার্তায় রাত থামে না
  2. 2. ভালোবাসা নয়, ভয়টা কথা বলে
  3. 3. ভুল নম্বরের মালিককে খুঁজে
  4. 4. রিমার চুপের চিঠি ছিঁড়ে যায়
  5. 5. নীরব রাতকে শক্তি বানায়

Preview: ভাঙা বার্তায় রাত থামে না

A short excerpt from “ভাঙা বার্তায় রাত থামে না”. The full book contains 5 chapters and 8,732 words.

অনেক রাত হয়ে গেছে - কলকাতার উপকণ্ঠের ছোট ফ্ল্যাটে জানালার বাইরে রাস্তাটা যেন কাচের মতো স্থির। মাঝে মাঝে একটুখানি আলো-ছায়া বদলায়, ট্রাফিকের দূর গর্জন শোনা যায়, তারপর আবার থেমে যায়। অনিক তখনও ফোনটা কানে ধরে আছে; স্ক্রিনের নীল আলো মুখে পড়ে, চোখের পাতার ভেতরটা শুকিয়ে আসে। ভাঙা ভাঙা কথাগুলো বারবার লিখেও মুছে দেয় সে - কারণ রিমা সেনকে বোঝাতে চাইলে, এই রাতটা আরেকবার ঠিক করে নিতে হবে। সম্পর্কটা শেষ হয়ে গেছে, এমনটাই ভাবতে ভাবতে সে ক্লান্ত; তবু ফোনের ভিতরকার টানটায় একটা আশা লেগে থাকে, জ্বলে থাকে।


স্ক্রিনে বার্তা পাঠানোর ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরতে থাকে “ডেলিভার্ড” - কখনও আসে, কখনও থেমে যায়। তারপরই আবার নোটিফিকেশন। অনিকের ভেতরটা সোজা হয়ে যায়, যেন কেউ টান মেরে বলছে - এবার ধরবে। সে চোখ সরায় না, আঙুল দিয়ে কাঁধের ওপর থেকে চুল এলোমেলো করে সরিয়ে নেয়, গলায় শুকনো একটা শব্দ আটকে থাকে। “রিমা… আমি ভুল বুঝিনি - তুমি… তুমি ভুল বুঝোনি তো?” কথাটা সে মুখে বলে না; ফোনের স্ক্রিনে পাঠায়। কিন্তু সেই মেসেজের প্রাপ্তি যায় অন্য কোথাও। স্ক্রিনে নামটা দেখে বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে - রিমার বদলে এক অচেনা কন্টাক্ট, ভুল নম্বরের ছায়া। অনিক আবার টাইপ করে, আবার পাঠায়। বারবার একই নোটিফিকেশন: “আপনার মেসেজ পৌঁছেছে।”


ভুল হাতে পড়া এই মেসেজগুলোই যেন তার ভাঙা রাতকে আরও ভাঙে। অনিক ফোনটাকে একটু শক্ত করে ধরে, তর্জনীর নিচে কাঁচের মতো ঠান্ডা লাগে, আর ভেতরে আগুনের গন্ধ - নিজের ঘাম, নিজের দুশ্চিন্তা। সে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট টেবিলের ওপর কাপড়চোপড়ের স্তূপের দিকে এক পলক তাকায়; সেখানে একটা পুরোনো কাগজের খাম পড়ে আছে - যেটা সে গত সপ্তাহে বের করে রেখেছিল, রিমাকে কিছু দেখানোর জন্য। খামটা খোলা হয়নি। কিন্তু ফোনের স্ক্রিন - তার চেয়ে বেশি নির্মম কিছু দেখায়। রিমার শেষ দেখা চ্যাটের পর থেকে আর কোনো উত্তর নেই, অথচ তার পাঠানো কথাগুলো পৌঁছে গেছে। তাহলে কে পড়ল? কেন পড়ল?


ফোনের কম্পন থামে না। বারবার মেসেজ ডেলিভার্ড দেখায়, কিন্তু রিমার নম্বরে যায় না। অনিক কন্টাক্ট লিস্ট ঘাঁটে - রিমার নামের নিচে যে নম্বরটা সে এতদিন ধরে ধরে রেখেছে, সেটাই তো। তবু তার স্ক্রিনে “মেসেজ থ্রেড” - অন্য কেউ। হঠাৎ করে মাথার ভেতরটা পরিষ্কার হয়ে যায় না; আরও অন্ধকারে ডুবে যায়। সে বারবার একই প্রশ্নে ফিরে আসে - এটা কি সত্যিই ভুল নম্বর, নাকি কেউ ইচ্ছে করে তাকে পথভ্রষ্ট করছে? ঘরের মধ্যে এসির বাতাস নেই; শুধু ফ্যানের পুরনো শব্দ - ঝাঁঝরা ঘড়ির কাঁটার মতো - টানতে টানতে ভেঙে যায়। তবু তার কানে স্পষ্ট শোনা যায় একটাই শব্দ: নিজের ভাঙা সিদ্ধান্ত।


সে ফোনটা নিচে নামিয়ে রাখে না; বরং কাঁধের ওপর থেকে দু’হাত দিয়ে স্ক্রিনটা ঘষে যেন মুছে ফেলতে চায় ভুলটা। তবু স্ক্রিনের তথ্য পালায় না। অনিক দাঁড়িয়ে যায়, জানালার দিকে এগোয়। বাইরে রাস্তার উপর আলো পড়ে, তারপর সরে যায়। সেই আলো-ছায়ার দাগের মতো তার মাথায় দৃশ্যপট বদলায়। যদি মেসেজটা অন্য কারও কাছে যায়, তাহলে রিমা হয়তো কিছুই জানে না। আর যদি রিমা না জানে, তাহলে তার দোষটা, তার ভুলটা - সবই বাতাসে ঝুলে থাকে। অনিকের বুকের ভেতরে ব্যথা একটা গিঁট হয়ে ওঠে; সে বুঝতে পারে, শুধু ভুল বোঝাবুঝি ঠিক করলেই হবে না - আগে জানতে হবে, বার্তাটা কে পড়ল।


তার গলা থেকে বেরিয়ে পড়ে অশ্রাব্য একটুকরো হাসি - কোনো সুখের হাসি না, বরং নিজের অসহায়তার উপর - “কীভাবে… কীভাবে রিমা নয়, আরেকজন?” সে তৎক্ষণাৎ কল লগ খুলে দেখে। শেষ কয়েকটা কল - কাউকে সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু রিমার কল ধরেনি। তবু মেসেজের ডেলিভারি নিশ্চিত। অনিক স্ক্রিনের ওপর আঙুল রেখে ধরে, নম্বরটা নোট করে। নম্বরটা মনে রাখতে হয় না; সে দেখতে চায় - এই অচেনা কন্টাক্টের নামটা কোথা থেকে এসেছে। কন্টাক্টের নামের পাশে লেখা থাকে কিছু আদ্যক্ষর - যেটা সে আগে দেখেনি। তার ভেতরের ভয় তখনই বাড়ে, যখন সে দেখে সেই নম্বরটা তারই ফোনে “সেভড” আছে - কিন্তু সে সেভ করেনি।


ঘরের ভেতর চুপচাপ এতটাই ভারী যে, দূরে কোথাও বাসের ইঞ্জিন ঘুরলে কম্পনটা টের পাওয়া যায়। অনিক আবার বসে পড়ে, ফোনের স্ক্রিনে ফিরে আসে। সে মেসেজ পাঠায় - এইবার অচেনা কন্টাক্টকে। লেখে, “আপনি এই নম্বর থেকে মেসেজ পেয়েছেন? যিনি পাঠিয়েছেন তিনি অনিক। আপনি কেন থ্রেডে ঢুকে পড়েছেন?” পাঠানোর পর সে নিজের আঙুলের ওপরেই রাগ করে - কেন সে এভাবে কাঁপা কাঁপা লিখল, কেন সে আগে প্রমাণ চাইলে না। কিন্তু রাত তো আর অপেক্ষা করে না। সে জানে, ভুলটা যতক্ষণ লুকিয়ে থাকে, ততক্ষণ রিমার কাছে তার সত্যটা পৌঁছায় না।


দুই মিনিটও যায়নি। তাতেই স্ক্রিনে রিড রিসিভড আসে। অনিকের চোখ বড় হয়ে যায়। সে ফোনটা কানে ধরার আগেই মেসেজটা দেখতে পায় - ছোট্ট একটা লাইন, কিন্তু শব্দগুলো ছুরি হয়ে বসে যায়।


“আপনি? আপনার মেসেজ আমার কাছেই ছিল। আপনার রিমা জানে না - কারণ আপনি যে নম্বরে লিখেছেন, সেটা ওর নয়।”


অনিকের গা ঠান্ডা হয়ে যায়। সে দাঁড়িয়ে থাকে যেন মেঝে হঠাৎ করে কেঁপে উঠল। রিমা জানে না - এই কথাটা শুনে তার মাথায় একটা দীর্ঘ শূন্যতা তৈরি হয়। সে আবার লিখতে চায়, কিন্তু আঙুল থেমে যায়। তারপরই আরেকটা মেসেজ আসে - আরও নিচু স্বরে, আরও সন্দেহজনক।


“আপনি কে? কেন হঠাৎ করে আবার লিখছেন? আর এটা ভুল নম্বর না - এটা বদলানো।”


“বদলানো?” অনিক ফিসফিস করে। ঘরের ভেতর নিজের কণ্ঠস্বরটা কেমন কাঁচা লাগে, কেমন ভাঙা। সে স্ক্রিনে ফিরে যায়, দ্রুত টাইপ করে - “কীভাবে বদলানো? কে বদলাল? আমি রিমার নম্বরেই লিখেছি।”


কিন্তু এবার উত্তর আসতে দেরি হয়। সে ফোনটা বুকের কাছে নিয়ে আসে, যেন ফোন না থাকলে সে শ্বাস নিতে পারবে না। জানালার বাইরে আলো-ছায়া আবার নড়ে ওঠে; দূরে একটা মোটরবাইকের শব্দ ক্ষণিকের জন্য গড়িয়ে আসে, তারপর হারিয়ে যায়। অনিকের মাথায় ভিড় করে যায় - রিমার শেষ কথাগুলো, তার নিজের রাগ, তার নিজের ভুল বোঝা। সে ভাবতে থাকে, কোথায় সে ভুল করল? আর যদি কেউ বদলে দিয়ে থাকে, তাহলে সে ভুল করে - কিন্তু সেটা কি তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত?

...

About this book

"নীরব রাতের কান্না" is a fiction book by Anonymous with 5 chapters and approximately 8,732 words. A dark Bengali emotional novel about love, betrayal, and healing..

This book was created using Inkfluence AI, an AI-powered book generation platform that helps authors write, design, and publish complete books. It was made with the AI Novel Writer.

Frequently Asked Questions

What is "নীরব রাতের কান্না" about?

A dark Bengali emotional novel about love, betrayal, and healing.

How many chapters are in "নীরব রাতের কান্না"?

The book contains 5 chapters and approximately 8,732 words. Topics covered include ভাঙা বার্তায় রাত থামে না, ভালোবাসা নয়, ভয়টা কথা বলে, ভুল নম্বরের মালিককে খুঁজে, রিমার চুপের চিঠি ছিঁড়ে যায়, and more.

Who wrote "নীরব রাতের কান্না"?

This book was written by Anonymous and created using Inkfluence AI, an AI book generation platform that helps authors write, design, and publish books.

How can I create a similar fiction book?

You can create your own fiction book using Inkfluence AI. Describe your idea, choose your style, and the AI writes the full book for you. It's free to start.

Write your own fiction book with AI

Describe your idea and Inkfluence writes the whole thing. Free to start.

Start writing

Created with Inkfluence AI